ক্রিকেটে প্রতিদিনই নতুন কিছু ঘটে, কিন্তু আইপিএলের এবারের আসর যেন ব্যাটিং দাপটের এক নতুন সংজ্ঞা লিখে ফেলেছে। ২০২৫ সালের আইপিএলের শুরুর দিকেই যা ঘটলো, তা টুর্নামেন্টের ১৮ বছরের ইতিহাসে কখনও দেখা যায়নি—টানা ৭ ইনিংসে দলীয় ২০০ রান পার! হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। এ যেন টি-টোয়েন্টি নয়, ব্যাটসম্যানদের স্বর্গরাজ্য!
🔥 শুরুটা হয়েছিল বেঙ্গালুরু-মুম্বাই ম্যাচ দিয়ে
বেঙ্গালুরু প্রথমে ব্যাট করে তোলে ২২১ রান। জবাবে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের লড়াকু ইনিংস থামে ২০৯ রানে। দিন যত এগিয়েছে, স্কোরবোর্ডের রান যেন আকাশ ছুঁয়েছে।
পরদিন লখনৌ সুপার জায়ান্টস ঝড় তোলে ২৩৮ রান। কলকাতা নাইট রাইডার্সও কম যায়নি—তারা করে ২৩৪ রান। এরপরের ম্যাচে পাঞ্জাব কিংস ও চেন্নাই সুপার কিংসের দ্বৈরথেও দুই দল দুইশর ঘরে পৌঁছায়।
🌟 রেকর্ডে রেকর্ড যোগ হয় গুজরাট টাইটান্স ইনিংসে
সাই সুদর্শনের ৮২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস আর জশ বাটলার, শাহরুখ খানের অবদান মিলে গুজরাট টাইটান্স স্কোরবোর্ডে তুলে ২১৭। আর এতেই আইপিএলে প্রথমবারের মতো টানা ৭ ইনিংসে ২০০+ রান দেখলো বিশ্ব।
📉 আর রাজস্থানের ইনিংসে থামল এই ইতিহাস
৬৯৬ দিন পর রাজস্থান রয়্যালস মাত্র ১৫৯ রানে অলআউট হয়ে গেল ২০ ওভারের আগেই। সেই সঙ্গে থেমে গেল আইপিএলের টানা ২০০ রানের ম্যারাথন। কিন্তু এই কয়েক ম্যাচেই তৈরি হয়েছে এক নতুন ব্যাটিং সংস্কৃতি—যেখানে বোলারদের মুখে ঘাম, আর দর্শকের মনে উত্তেজনার বিস্ফোরণ।
📊 সংখ্যায় সংখ্যায় ব্যাটিং রাজত্ব
-
চলতি আসরে: ২২ ম্যাচে ১৫টি ২০০+ ইনিংস
-
২০১৮ সালে: ৬০ ম্যাচে ছিল মাত্র ১৫টি
-
সর্বোচ্চ: ২০২৪ সালে ৪১ বার দলীয় স্কোর দুইশ ছাড়িয়েছিল
🎯 কী বলছে এই পরিসংখ্যান?
-
ব্যাটিং উইকেট ও ছোট মাঠের প্রভাব বাড়ছে
-
স্ট্রাইকরেট ও পাওয়ার হিটিংয়ের প্রতি দলগুলোর আগ্রহ বৃদ্ধি
-
টেকনোলজি ও ব্যাটিং স্ট্র্যাটেজির ব্যাপক উন্নতি
-
বোলারদের জন্য চ্যালেঞ্জ দিন দিন বেড়েই চলেছে
🧠 শেষ কথা
আইপিএল শুধু একটা লিগ নয়—এটা ক্রিকেটের এক্সপেরিমেন্ট ল্যাব। এখানে প্রতিদিন তৈরি হয় নতুন রেকর্ড, নতুন নায়ক। ২০২৫ সালের আসর সেই ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালো ব্যাটিং মহোৎসব দিয়ে। প্রশ্ন একটাই—এই ধারাবাহিকতা কি ভবিষ্যতের ক্রিকেটে ব্যাট ও বলের ভারসাম্যকে বদলে দেবে?
.png)