বসন্ত এলেই নওগাঁর আকাশ-বাতাস ভরে ওঠে আমের মুকুলের স্নিগ্ধ সুবাসে। কিন্তু ২০২৫ সালের বসন্ত যেন নিয়ে এসেছে শুধু আশার আলো নয়, বরং অনেকটা হতাশার ছায়াও। এবার গাছে গাছে মুকুলের বাহার থাকলেও, ফলন নেই বললেই চলে।
নওগাঁর চাষিদের চোখে ছিল স্বপ্ন—উচ্চ ফলনের, ভালো বাজারদরের। অথচ সেই স্বপ্ন আজ রূপ নিচ্ছে দুশ্চিন্তায়, কারণ শত মুকুলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত আম।
🐛 উকুন পোকা ও আবহাওয়ার বেইমানি
গত ১৫ দিনের মধ্যে জেলার প্রায় ৭৫-৮০ শতাংশ বাগানে মুকুল নষ্ট হয়ে গেছে। চাষিরা বলছেন—তীব্র খরা, অস্বাভাবিক আবহাওয়া আর উকুন পোকা মিলে এ বছর আম চাষে যেন একের পর এক বিপদ। কীটনাশক ব্যবহার করেও কাজ হচ্ছে না, বরং খরচ দিন দিন বাড়ছে।
❝৯ বিঘা জমির বাগানে দেড় লাখ টাকা খরচ করেছি, কিন্তু ফলন দেখে এখন মনে হচ্ছে এই খরচই উঠে আসবে না❞ — মতিউর রহমান, চাষি (গাঙ্গুরিয়া, পোরশা)
📉 মাঠে হতাশা, অথচ খাতায় লক্ষ্য আগের মতোই
কৃষি বিভাগ বলছে—জেলায় ৩০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে এবার আমের চাষ হয়েছে। লক্ষ্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টন উৎপাদন। কিন্তু চাষিদের কথা শুনলে স্পষ্ট—এই টার্গেট বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে কতটা সম্ভব, সেটা নিয়ে সন্দেহ থাকেই।
❝মুকুল বেশি এলেও গুটি ঝরে যাচ্ছে। ফলন যেমন কমছে, তেমন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাও চ্যালেঞ্জের মুখে❞ — আবুল কালাম আজাদ, উপ-পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর
💸 বছরের হিসাব উল্টো পথে
আম চাষ শুধু ফলন নির্ভর নয়—এটা একটা আর্থিক লেনদেন। কীটনাশক, সেচ, শ্রমিক, পরিবহন—সব মিলিয়ে খরচ অনেক। কিন্তু ফলন কম মানে শুধু লোকসান নয়, পুরো বছরের আয়-রোজগারে ধাক্কা।
❝গত বছর ৬.৫ লাখ টাকা বিক্রি হলেও এবার সেটা হবে কিনা সন্দেহ। কিন্তু খরচ তো একই!❞ — মফিজুল ইসলাম, আমচাষি (তিলনা, সাপাহার)
🌿 ভবিষ্যৎ কী বলছে?
বৃষ্টি না হওয়া, আবহাওয়ার চঞ্চলতা, পোকার আক্রমণ—এসবই জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব। এখন সময় এসেছে আধুনিক কৃষি পদ্ধতি ও বালাই ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ বাড়ানোর। চাষিদের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সরকারি সহায়তা ছাড়া এই সমস্যা মোকাবিলা করা কঠিন।
📌 শেষ কথায়—মুকুল দেখলে আর যেন চাষিরা ভয় না পান!
মুকুল মানেই আম নয়—এবারের মৌসুম তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। কিন্তু আশার কথা হলো, কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সঠিক সময়ে উদ্যোগ নিলে এই সংকট কিছুটা হলেও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
.png)